নাট্য পরিচালক ও নাট্যকার মারুফ হোসেন সজীব মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর।
টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি ও নির্মাতা শিহাব শাহীন প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সজীবের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন দেশের অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতারা। অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমাদের সকলের প্রিয় নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।’
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী লিখেছেন, ‘মারুফ হোসেন সজীব ভাইয়ের সঙ্গে খুব বেশি কাজ করা হয়নি, কিন্তু অনেকবার দেখা হয়েছে। আমি যখন নিয়মিত নাটক করতাম, তখন ওনার সঙ্গে দেখা হলেই কত কিছু নিয়ে কথা হতো।’
সজীবের সৃজনশীল পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মেহজাবীন আরও লেখেন, ‘কত পরিকল্পনা, কত আইডিয়া ছিল ওনার। আরও কত কিছু করতে চেয়েছিলেন। আল্লাহ যেন সজীব ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর পরিবার ও প্রিয়জনদের এই কঠিন সময় সহ্য করার শক্তি ও সবর দান করেন। সবাই ওনার জন্য দোয়া করবেন।’
অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবও সজীবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে এমন একটা খারাপ খবর পাব, সত্যি বলতে, একদমই আশা করিনি। নিউজটা পাওয়ার পর কীভাবে প্রসেস করব, সেটাই বুঝতে আমার প্রায় পনেরো-বিশ মিনিট লেগে গেছে। অনেকক্ষণ থমকে ছিলাম। এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, মারুফ হোসেন সজীব ভাই আর আমাদের মাঝে নেই।’
তৌসিফ আরও লেখেন, ‘অথচ সেদিনই তো কথা হলো। সামনে কাজ হবে, দেখা হবে, কত স্বাভাবিক কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল আমাদের কথায়। অথচ জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, কতটা ছোট, মৃত্যু আবারও খুব নির্মমভাবে সেটা মনে করিয়ে দিল।’
‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’সহ বেশ কয়েকটি নাটক নির্মাণ করেছেন সজীব। পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পান তিনি। টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন।
২০২১ সালে ‘বিলোপ’ নাটকের চিত্রনাট্যকার হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পান সজীব। একই নাটকের জন্য ‘চ্যানেল আই ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২১’-এ শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও শ্রেষ্ঠ নাট্য পরিচালক হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি।
নাট্য নির্মাণের পাশাপাশি ‘অলিতে গলিতে’ নামে একটি ছোটগল্পের বইও প্রকাশ করেছেন সজীব।
মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে সজীবের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার